হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামুদ্রিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ইউরোপীয় মালিকানাধীন দুটি জাহাজ জব্দ করার ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বহীন করে দেখালেও, বাস্তবে উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে পাল্টাপাল্টি অবরোধ জোরদার করছে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) ইরান হরমুজ প্রণালীতে তিনটি জাহাজে হামলা চালায় এবং এর মধ্যে দুটি জাহাজকে নিজেদের জলসীমায় নিয়ে যায়। ওই ঘটনার পর নতুন করে শঙ্কা জেগেছে যুদ্ধের ভবিষৎ ইস্যুতে আলোচনা।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই অভিযান প্রমাণ করে যুদ্ধের দুই মাস পরও দেশটির ছোট আক্রমণের নৌযানগুলো গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে সক্ষম।
যদিও যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছিল, ইরানের নৌবাহিনী প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, তারা তাদের অবরোধ অতিক্রম করতে চাওয়া ২৯টি জাহাজকে বাধা দিয়েছে।
রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম বলেন, ইরানের বন্দর ও জাহাজ বয়কট করার যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগ শিগগিরই ‘বৈশ্বিক রূপ’ নিতে পারে।
তবে ট্রাম্প প্রশাসনের অবরোধের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সামুদ্রিক সংবাদমাধ্যম লয়েড’স লিস্ট। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ট্যাঙ্কারসহ দুই ডজনের বেশি জাহাজ ওমান উপসাগরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ এড়িয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।
এই জাহাজ জব্দ ও পাল্টাপাল্টি অবরোধ হরমুজ প্রণালীতে সামরিক ও কূটনৈতিক অচলাবস্থা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। যার প্রভাব বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে আরও ব্যাপক আকারে পড়ার আশঙ্কা জাগিয়েছে।


